ভিডিও ভাইরালের পর কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী বরখাস্ত
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুষ নেয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃত দুইজন হলেন- কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মমতাজ বেগম।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খায়রুল আলম শেখ ও সমাজসেবা অধিদফতরের যুগ্ম সচিব (পরিচালক প্রশাসন ও অর্থ) সৈয়দ মো. নুরুল বাছির স্বাক্ষরিত আলাদা প্রজ্ঞাপনে তাদের সাময়িক বরখাস্তের তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার হারবাং মধ্যম পহরচাঁদা এতিমখানার শিশুদের জন্য ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দ দেওয়া হয় এক লাখ ৯২ হাজার টাকা। এ টাকা পেতে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. আমজাদ হোসেন ও অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মমতাজ বেগম এতিমখানার সভাপতি রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ চান। তিন দফা বৈঠক করার পর মমতাজ বেগমকে নগদ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। ভিক্ষুকদের সেলাই মেশিন বিতরণের অফিস খরচের জন্য পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমজাদ হোসেন ও মমতাজ বেগমের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ হয়। সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ ছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ও প্রতিবন্ধী ভাতা বই পেতে উপকারভোগীর কাছ থেকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করতেন আমজাদ হোসেন ও মমতাজ বেগম।
ভুক্তভোগী এতিমখানার সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, সমাজসেবা কার্যালয়ের সব গরিব লোকজনই যায়, কিন্তু তাদের চুষে খাচ্ছে এ রকম কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। সংশ্লিষ্ট দফতর দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় আমি খুশি। এতিমদের টাকা মেরে খাওয়া মানুষগুলোর শাস্তি হওয়া দরকার।



Comments
Post a Comment