ঋতুপর্ণার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ষড়যন্ত্রের দাবি অভিনেত্রীর

 





রেশন দুর্নীতি মামলায় কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে ডেকে পাঠালো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ২০১৯ সালে অর্থলগ্নি সংস্থা রোজভ্যালির আর্থিক নয়ছয়ের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রায় পাঁচ বছর পরে আবার অন্য মামলায় ইডি তলব করল তাকে। বৃহস্পতিবার ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫ জুন তাকে ইডির দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

আনন্দবাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে, ঋতুপর্ণা বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন। বুধবার ই-মেলে তাকে তলব করা হয়েছে। রেশন দুর্নীতিতে গ্রেফতার এক অভিযুক্তের সঙ্গে টলিউড অভিনেত্রীর প্রায় এক কোটি টাকা নগদ লেনদেনের হদিস মিলেছে তদন্তে। তার কারণ এবং সেই অর্থের ‘গন্তব্য’ জানতেই ঋতুপর্ণাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এখন আছেন মায়ামিতে। সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমের কাছে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। রেশন দুর্নীতি কী? সে সম্পর্কে আমার কোনও  ধারণা নেই। আচমকাই এই খবর পেলাম। আমার কলকাতার বাড়িতেও কোনও চিঠি আসেনি।’

অভিনেত্রী আরও জানান জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে তার দু’একটি অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎ বিনিময় ছাড়া আর কোনও দিন কিছুই হয়নি। তিনি বললেন, ‘সামনে নতুন ছবি আসছে। তার মাঝে এই খবর। আমার সম্মানহানি হলো। একজন অভিনেত্রী, যিনি সারা জীবন পরিশ্রম করে চলেছেন, তার সম্পর্কে হঠাৎ এমন বলে দেওয়া কিন্তু অন্যায়!’

ঋতুপর্ণা নিশ্চিত, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কিন্তু ইডির ডাকে যাবেন কি? প্রশ্ন শুনে বললেন, ‘আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেব।’

প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বনগাঁ পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য, রেশন ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান-সহ শাসকদলের কয়েক জন নেতা ও তাদের ঘনিষ্ঠকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে ইডি। রেশন দুর্নীতির তদন্তেই সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে গিয়ে গত ৫ জানুয়ারি আক্রান্ত হয়েছিলেন ইডির আধিকারিকেরা।

এর আগে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ঋতুপর্ণা এবং অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে রোজভ্যালিকাণ্ডের তদন্তকারী সংস্থা ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। এক সময়ে বেশ কিছু বাংলা ছবি প্রযোজনা করেছিল রোজভ্যালি সংস্থা। সেই সূত্রেই ঋতুপর্ণার সঙ্গে সংস্থার কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুর যোগাযোগ হয়েছিল বলে ইডির তরফে সে সময় জানানো হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে টলিউড অভিনেত্রীর সংস্থার সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল রোজভ্যালি গোষ্ঠীর। গৌতমের সংস্থার প্রযোজনায় কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন ঋতুপর্ণা। সে সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন নিয়ে পাঁচ বছর আগেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করে তাঁর থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিল ইডি।

Comments